২০০৬ সালে প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত যুবক পরিবারের |
|
যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি |
![]() |
লাখো মানুষের স্বপ্নের সম্মিলন |
|
সূত্র : যু.ক.সো/ চিঠি/ মে-২০১৩/ ২৬৯,
বিষয় : গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ, দায়-মুক্তি ও উত্তরন প্রসঙ্গে।
সম্মানিত দায়িত্বশীল ভাই-বোনেরা, আস্ সালামু আলাইকুম। দায়িত্বশীল ভাই-বোনেরা যুবক পরিবার মনে করে, এই দায় যুবকের সৃষ্টি এবং যুবকের সম্পদ ও প্রকল্পগুলোর সচলায়ন ও যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে এই দায় পরিশোধের দায়িত্বও যুবকের। আমরা আশা করেছিলাম, সরকার গঠিত কমিশন এর সহযোগিতা নিয়ে আমাদের উত্তরন সম্ভব হবে, কিন্তু বাস্তবে তা আশায় গুড়ে বালি। আসলে, দায় পরিশোধের জন্য যা কিছু করার তা সবই আমাদেরকে করতে হবে। জমি, প্লট, কোম্পানির দৃঢ়তার সাথে এ কথা বলা যায় যে, দুর্ভাগ্যজনক ১/১১ না এলে যুবক- ২০০৭ সালেই ঘুরে দাঁড়াবার মতো অবস্থায় চলে এসেছিল। আপনারা জানেন যে, ২৪ মে’০৬ তারিখে যুবক -এর একটি আর্থিক কার্যক্রমকে অবৈধ ব্যাংকিংয়ের অভিযোগ এনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া শো-ক‘জ নোটিশ নিয়ে কতিপয় মিডিয়া হোলি-খেলায় মেতে ওঠে। যুবক ৬ মাসের উত্তরন-প্রচেষ্টায় একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করেছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত ১/১১ এর সামরিক সমর্থিত সরকারের ২ বছর মেয়াদের পুরো সময়টা জুড়ে DGFI, টাস্ক-ফোর্স, RAB, পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনে সারাদেশের সংগঠন, জনশক্তি, নেটওয়ার্ক- সবই ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যায়। যা শত চেষ্টা করেও আর পুণর্গঠন করা সম্ভব হয়নি। নিরপরাধ, নিরীহ সাধারণ সদস্যদের দু:খ-কষ্টের জন্য আমরা দু:খিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। প্রতিহিংসার আক্রমণে আক্রান্ত যুবকের নিরপরাধ, নিরীহ সাধারণ সদস্যদের সুখ-শান্তি বিনষ্ট হয়েছে। আমরা তাদের চাহিদানুযায়ী সমর্থন-সহযোগিতা করতে পারিনি। আসলে, যুবকের মতো একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের জন্য যা করার ছিল, আমরা শুধু তাই করেছি, অর্থাৎ আমরা রাষ্ট্রের নির্দেশনাকে চ্যালেঞ্জ না করে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে মেনে নিয়েছি। আমরা জানি যে, আমরা জেনে-বুঝে কোন অন্যায় করিনি। আমাদের এই দুঃখ কষ্টের জন্য আমাদের সাথে সরকার, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে কমিউনিকেশন গ্যাপটাই অনেক বেশি দায়ী। ফলশ্রুতিতে, যুবকের ক্ষুদ্রঋণ ও প্রকল্প-ঋণ কার্যক্রম সহ আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং মাঠে অনাদায়ী হিসাবে আটকে পড়ে প্রায় ২০০৬ সালে যুবকের সদস্যদের বিনিয়োগ ছিল ৭০০/ ৭৫০ কোটি টাকা অন্যান্য বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে : IFIC ব্যাংকের শেয়ার, Rtv- এর ৫৮% মালিকানা শেয়ার, ৪টি মৎস্য হ্যাচারি, ফার্মাসিউটিক্যাল এর ৩৪% মালিকানা শেয়ার, ২টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির স্পন্সরশীপ, যুবক হাউজিংয়ের ক্রয় করা বাড়ি, মার্কেট এবং জমি। কৃষি খামার, রাবার বাগানে বিনিয়োগ, হিমায়িত মাছ রপ্তানী, প্রিন্ট-মিডিয়ার শেয়ার, চামড়াজাত পণ্য-রপ্তানীতে বিনিয়োগ, মেডিক্যাল সার্ভিস, যুবক প্রিন্ট-শাড়ী, চেইন-মার্কেটিং, বিষমুক্ত সবজী উৎপাদন, প্রশিক্ষন একাডেমী, নারী উন্নয়ন, শিশু প্রতিভা বিকাশ, পরিবার পরিকল্পনা, শিক্ষা বৃত্তি, পোল্ট্রি খামার, ট্যুরিজম, ট্রাভেলস এজেন্সি, ICT প্রকল্প, পুঁজিবাজার সহ কর্মসংস্থান সহায়ক প্রকল্পগুলোও গ্রহণ করা হয়। সম্মানিত দায়িত্বশীল, শুণ্য থেকে যারা হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলতে পারে, দায় সৃষ্টি করতে পারে, তারাই এখন শত-কোটি টাকার সম্পদের উপর দাঁড়িয়ে হাজার কোটি টাকার দায়-শোধ করতে পারবে, এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। আপনারা জানেন যে, যুবক সামাজিক-পুঁজি গঠন পদ্ধতিতে পরিচালিত একটি দেশীয় শিল্প-বানিজ্য উদ্যোগ। যুবক দেশের টাকায় দেশের লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একটি সম্মিলিত প্রয়াস। যুবক-এর সকল সম্পদ স্থানীয়ভাবে ক্রয়কৃত এবং স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। যুবক-এর নামে টাকা পাচার, মানি লন্ডারিং, কর ফাঁকি, অবৈধ বা অনৈতিক অপরাধের অভিযোগ নেই। যুবক-এর প্রকল্পগুলো সম্ভাবনাময় ও লাভজনক এবং শ্রমঘন ও কর্মসংস্থানমূখী। যুবক কর্মকর্তারা দায় অস্বীকার করেনি, টাকা পাচার করেনি, পালিয়ে দেশ ছাড়েনি বরং প্রত্যয় ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে জেল-জুলুম, নির্যাতন সহ্য করে দায়-পরিশোধের কাজ করে যাচ্ছে। জুলাই’০৬ থেকে চলমান দায় পরিশোধ ও উত্তরণ কার্যক্রমের সারাংশ : চলতি বছর জমি হস্তান্তর, নগদ টাকা বিতরণ ও বাণিজ্যিক কোম্পানীর শেয়ার বিতরণের মাধ্যমে ৫০০ কোটি টাকার দায় পরিশোধের কাজ ব্যাহত হয়েছে কমিশনের অসহযোগিতার কারনে। তারপরও, ২০১৪ সাল নাগাদ সকল দায় পরিশোধের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপশি, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রয়োজনে এতদসংক্রান্ত তথ্য ও নথি সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও সংরক্ষণের কাজ (ডিড/ ডকুমেন্টস) কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় নথিভুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে। নিম্নোক্ত তথ্যগুলো এই ওয়েব সাইটে সংযুক্ত করা হয়েছে : www.jubokmembers.com নিন্মোক্ত সমস্যাগ্রস্ত ইস্যূ গুলো সম্পর্কে কমিশনকে তথ্য প্রদান করে সহযোগিতা চাওয়া হয়। কমিশন অপারগতা প্রকাশ করায় বিষয়গুলো ঝুলে রয়েছে : ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, Rtv, পুরানা পল্টন লেনে অবস্থিত ২২ শতক জমি ও ১কোটি টাকার বকেয়া ভাড়া, পুরানা পল্টনের অ-সমাপ্ত বি.কে.টাওয়ার, তেজগাঁয়ের ৫০ শতক জমি ও ১কোটি টাকার বকেয়া ভাড়া,ভোলার ২০ কোটি টাকার জমি, বরিশালের মার্কেট ও জমি, ঝালকাঠির জমি- মিলিয়ে প্রায় ৬০-৭০ কোটি টাকার সম্পদ, সিলেটের ১০ কোটি টাকার জমি,জালকুঁড়ির ২০ কোটি টাকার জমি, খুলনার বাড়ি ও জাবুসার জমি এবং ২০০০ শতক জমিতে নির্মিত বাগেরহাটের হ্যাচারী মিলে প্রায় ৫০কোটি টাকার সম্পদ, ইত্যাদি মিলে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার জমি-সম্পদ সমস্যাগ্রস্ত হয়ে পড়ে আছে। এগুলোর সমাধান আমাদেরকেই করতে হবে। উত্তরন প্রক্রিয়ার মুল কথা : আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি যে, এই দায় আমরা সৃষ্টি করেছি এবং এই দায় মোচনের দায়িত্ব আমাদের। তাই, বিবেকের তাগিদে, এতোসব জেল-জুলুম, অপমান, হয়রানি সহ্য করেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে গত ৭টি বছর কাজ করে চলেছি এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর বাকী কাজটাও করতে চাই, এর কোন বিকল্প নেই। তাই শত বাঁধা, প্রতিকূলতা আর সংকট মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হবে, দায়মুক্ত হতে হবে। এই প্রতিশ্রূতি বাস্তবায়নের জন্য এখন প্রয়োজন আপনাদের সকলের পরামর্শ, সহযোগিতা এবং অংশগ্রহন। ক. প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন তথ্য, খ. পাশাপাশি আপনাদের ভাবনাগুলো আমাদের জানান, গ. করনীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে আপনাদের মতামত জানান। অর্থাৎ, দায়-দেনার পরিমান, প্রকৃতি, পরিশোধিত দায়ের বিবরন, দায় পরিশোধের জন্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় করনীয়, জনশক্তির সর্বশেষ অবস্থা, আমাদের জন্য সদস্যদের পরামর্শ, আয়-মুলক কাজের বিষয়ে স্থানীয় ও কেন্দ্রের জন্য পরামর্শ, অভিযোগ এবং তার প্রতিকারের পরামর্শ- ইত্যাদি লিখে পাঠানোর জন্য আপনাদের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। আপনাদের প্রেরীত মতামত/তথ্যের আলোকে কার্যক্রমকে আরো উপযোগী ও কার্যকর ভাবে সাজাতে হবে। গত ৭টি বছরে সংঘটিত ন্যায়-অন্যায় সব কিছুর হিসাব হওয়া প্রয়োজন। আপনাদের অংশগ্রহন ব্যতীত এর কোন কিছুই অর্জন করা সম্ভব নয়। আসুন, আমাদের সকলের দায়-মুক্তি ও উত্তরনের জন্য দোয়া প্রার্থনা করি। আপনাদের সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গিন সাফল্য কামনা করছি। বিশেষ প্রয়োজনে : (অফিস দিবসে দুপুর ১২টা থেকে ১টা, ৩টা থেকে ৪টা ) ৫৪ পুরানা পল্টন, বি.কে.টাওয়ার, ঢাকা-১০০০ মোবাইল: ০১৭২৪ ২৩৪ ৬৭৫ |
|