২০০৬ সালে প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত যুবক পরিবারের
দায়-মুক্তির টার্গেট : ২০১৪ সাল                               
যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি
1

লাখো মানুষের স্বপ্নের সম্মিলন

সূত্র : যুকসো/ চিঠি/ অক্টোবর-২০১৩/ ২৮৯

তারিখ : ০২.১০.২০১৩ ইং

 

বরাবর
জনাব আবুল মাল আব্দুল মুহিত
মাননীয় মন্ত্রী

অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, রমনা, ঢাকা-১০০০


বিষয় : যুবক গ্রাহকদের ৩ মাসের মধ্যে দায়-মুক্ত করার লক্ষ্যে
সরকারের কাছে ১,০০০ কোটি টাকার ‘প্রনোদনা ঋন’ এর জন্য আবেদন।

 

মাননীয় মহোদয়
আস্ সালামু আলাইকুম। বিনয়ের সাথে জানাচ্ছি যে, যুব কর্মসংস্থান সোসাইটির গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের কাজ অব্যাহত রয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকারের আন্তরিক ও গঠণমূলক মনোভাব, যুবক পরিবারের কর্মীদের ত্যাগ, সদস্যদের অসীম ধৈর্য্য ও সহযোগিতার ফলে দায় পরিশোধ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে।

আমরা প্রত্যয়ের সাথে যুবক এর প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গিকার রক্ষার ঘোষনা পুনরায় ব্যাক্ত করছি যে, এই দায় আমরা সৃষ্টি করেছি এবং এই দায়-মোচনের দায়িত্ব আমাদেরই। তিন লাখ সদস্য ও ৫০ হাজার কর্মী এবং তাদের পরিবারের ভোগান্তি লাঘবে দায়-পরিশোধের বিকল্প নেই। প্রতিশ্রুতির তাড়নায়, বিবেকের তাগিদে, এতোসব জেল-জুলুম, অপমান, হয়রানি সহ্য করেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পালিয়ে যাইনি বা দায় এড়িয়ে যাইনি। দায়-মুক্ত হবার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। প্রত্যয়ের সাথে জানাতে চাই, আমরা নিজেদের দায় পরিশোধের দায়িত্ব নিজেরাই কাঁধে নিয়ে গত ৭ বছর কাজ করে চলেছি এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য বাকী কাজটাও করে যাবো, ইন-শা-আল্লাহ।

২০০৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত হামলা-মামলা, জেল-জুলুম, অর্থকষ্ট ইত্যাদি সহ্য করে আমরা দায়-দেনা পরিশোধের কাজ অব্যাহত রেখেছি। ২.২৫ লক্ষ গ্রাহকের দায় পরিশোধ করা হয়েছে ৭০০ কোটি টাকার অধিক। যুবক পরিবার মনে করে, যুবকের এই দায় যুবকের সম্পদ ও প্রকল্পগুলোর সচলায়ন ও যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিশোধ করা খুবই সম্ভব। আর সে লক্ষ্যে যুবক কাজ করে যাচ্ছে। 

গণতান্ত্রিক এই সরকারের কাছে যুব কর্মসংস্থান সোসাইটির পরিচালনা পরিষদের বিনীত আবেদন,
যুবকের সদস্যদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে যুবক-এর নিরলস প্রচেষ্টা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রতি দায়িত্ববান থাকার এই কাজকে সরকার ইতিবাচক দৃষ্টিতে গ্রহন করবেন এবং ৩/৪ মাসের মধ্যে সদস্যদের দায়-মুক্ত করার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত কার্যক্রমকে সহায়তা করবেন :

ক.  সরকারের প্রতিনিধি ও যুবকের প্রতিনিধি নিয়ে একটি যৌথ দায়-পরিশোধ টীম/ কমিটি গঠন করা ;
     যুবকের পক্ষে ৭ জন এবং সরকারের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য নিয়ে দায়-পরিশোধ টীম/ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। 

খ.  সরকারের পক্ষ থেকে সদস্যদের দায়-মুক্তির জন্য ১,০০০ কোটি টাকার ‘প্রনোদনা ঋন’ প্রদান করা ;
     দায়-পরিশোধ টীম/ কমিটির মাধ্যমে যুবকের পাওনাদারদের মধ্যে এই টাকা বিতরন করা হবে।  

গ.  যুবকের স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পদ সরকার গ্যারান্টি হিসাবে গ্রহন করবে এবং এ সকল সম্পদের যথাযথ ব্যবহা নিশ্চিত করে সরকারের ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব নেবে যুবকের কেন্দ্রিয় পরিষদ।
     সদস্যদের দায়-মুক্তির জন্য গৃহিত ১,০০০ কোটি টাকার ‘প্রনোদনা ঋন’ এর গ্যারান্টি হিসাবে যুবকের স্থাবর-অস্থাবর সকল
     সম্পদ সরকার গ্রহন করবে। এ সকল সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে সরকারের ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব নেবে
     যুবকের কেন্দ্রিয় পরিষদ। এ ব্যাপারে একটি আইনসিদ্ধ চুক্তি হতে পারে।

গণতান্ত্রিক এই সরকারের কাছে আমরা আরো আশা করছি, সরকারের নিয়ন্ত্রনে রেখে যুবকের কর্মকর্তাদের ২/৩ টি বছর কাজ করার সুযোগ দেয়া হবে। এই ২/৩ টি বছর জেল-জুলুম, নির্যাতন থেকে পরিত্রান পেলে অর্থাৎ এ কাজে সরকারের সহযোগিতা পেলে যুবকের অবশিষ্ট দায় পরিশোধের কাজ সফল করে তোলা সম্ভব হবে।

দৃঢ়তার সাথে এ কথা বলা যায় যে, দুর্ভাগ্যজনক ১/১১ না এলে ‘যুবক’ ২০০৭ সালেই ঘুরে দাঁড়াবার মতো অবস্থায় চলে এসেছিল ২০০৬ সালে আক্রান্ত যুবক ৬ মাসের চেষ্টায় একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরী করেছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ১/১১ এর সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুরো ২ বছর মেয়াদে DGFI, টাস্ক-ফোর্স, সামরিক কর্মকর্তা, RAB, পুলিশ- নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনে সারাদেশের জনশক্তি, নেটওয়ার্ক- সবই ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যায়। যা আজো পুণর্গঠন করা সম্ভবপর হয়নি।

যুবক রাষ্ট্রের নির্দেশনাকে চ্যালেঞ্জ না করে বরং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দেশনা পরিপালন করেছে
অযৌক্তিক, অন্যায় ও অপরিনামদর্শী হওয়া সত্বেও কেন্দ্রিয় ব্যাংকের নির্দেশনাকে চ্যালেঞ্জ না করে বরং নিয়মতান্ত্রিক ভাবে মেনে নিয়েছে যুবক। যদিও এই মেনে নেয়ার কারনে সাধারণ সদস্যদের দু:খ-কষ্টের মাত্রা বেড়েছে। যুবক একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, এটা আজ আর প্রমান করার অপেক্ষা রাখেনা। গত ৭ বছরের বিধ্বস্ত প্রতিষ্ঠানটি এখনো তার জনশক্তি ও সদস্য নিয়ে কাজ অব্যাহত রেখেছে, আগামী ২০১৪ সালে দায়-মুক্ত হবার জন্য জীবন-পণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আমরা জানি, আমরা জেনে-বুঝে কোন অন্যায় করিনি। আমাদের এই দুঃখ কষ্টের জন্য আমরাই একমাত্র দায়ী নই, বরং আমাদের সাথে সরকার, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে কমিউনিকেশন গ্যাপটাই অনেক বেশি দায়ী। এতোকিছুর পরও আমরা মনে করি, শুণ্য থেকে যারা হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলতে পারে, দায় সৃষ্টি করতে পারে, তারাই তাদের পুণ: প্রচেষ্টায় দায়-শোধ করতে পারবে, এটাই স্বাভাবিক।

নিম্নোক্ত তথ্যগুলো ওয়েব সাইটে সংযুক্ত করা হয়েছে
ক. দায়ের বিপরীতে নগদ টাকা প্রাপ্ত ২ লক্ষ গ্রাহকের তালিকা ;  খ. দায়ের বিপরীতে ৫,০০০ প্লট গ্রহীতার তালিকা ; 
গ. দায়ের বিপরীতে সমন্বয়কৃত ৪১,০০০ ডিড/ ডকুমেন্টস এর তালিকা।
www.jubokmembers.com

আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি যে, এই দায় আমরা সৃষ্টি করেছি এবং এই দায়-মোচনের দায়িত্বও আমরা স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নিয়েছি। তিন লাখ সদস্য ও ৫০ হাজার কর্মী পরিবারের ভোগান্তি লাঘবে দায়-পরিশোধের বিকল্প নেই। প্রতিশ্রূতির তাড়নায়, বিবেকের তাগিদে, এতোসব জেল-জুলুম-অপমান-হয়রানি সহ্য করেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পালিয়ে যাইনি বা দায় এড়িয়ে যাইনি। প্রত্যয়ের সাথে বলতে চাই, দায় পরিশোধের কাজ করে চলেছি বাকী কাজটাও করে যাবো। শত বাঁধা, প্রতিকূলতা আর সংকট মোকাবেলা করেও যুবক দায়মুক্ত হবার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আমরা জনকল্যানমুখী সরকারের মাননীয় মন্ত্রী হিসাবে আপনার সানুগ্রহ সহযোগিতা ও দোয়া একান্তভাবে কামনা করছি।

বিনীত
যুব কর্মসংস্থান সোসাইটির পরিচালনা পরিষদের পক্ষে- 

 
হোসাইন আল মাসুম
নির্বাহী পরিচালক  
                                                           

কপি প্রেরন :
১. মাননীয় সচিব, অর্থ মন্ত্রনালয়
২. মাননীয় সচিব, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রনালয়

সংযুক্তি :
ক. ২০০৬ সালে যুবকের সদস্যদের বিনিয়োগ ছিল ৭০০/ ৭৫০ কোটি টাকা ;
খ. ‘দায়-মুক্ত-জেলা’ ঘোষণা দেয়ার প্রস্তুতি ;
গ. সমস্যাগ্রস্থ প্রকল্পগুলোর বিবরন।

৫৪ পুরানা পল্টন, বি.কে.টাওয়ার, ঢাকা-১০০০                                                                  
website: www.jubokmembers.com     e-mail : jubok1997.bd@gmail.com    : jubok2014@yahoo.com    

সদস্যদের দায় পরিশোধের লক্ষে মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয় বরাবর
১,০০০ কোটি টাকার ‘প্রনোদনা ঋন’ এর জন্য আবেদন    
- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -

সংযুক্তি-০১

২০০৬ সালে যুবকের সদস্যদের বিনিয়োগ ছিল ৭০০/ ৭৫০ কোটি টাকা
ক্যাটালিষ্টের ভুমিকায় যুবক গড়ে তোলে বড়-মাঝারি-ছোট মিলিয়ে ৪০টি শিল্প-বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র-ঋণের প্রায় ৩,০০০টি প্রকল্প। এ সবের মধ্যে বৃহৎ বিনিয়োগ ক্ষেত্র Telebarta Ltd. (যুবক ফোন) এবং যুবক হাউজিং। এ খাতে বিনিয়োগ করা হয় ৫০০ কোটি টাকা।

অন্যান্য বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে : IFIC ব্যাংকের শেয়ার, Rtv- এর ৫৮% মালিকানা শেয়ার, ৪টি মৎস্য হ্যাচারি, ফার্মাসিউটিক্যাল এর ৩৪% মালিকানা শেয়ার, ২টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির স্পন্সরশীপ, যুবক হাউজিংয়ের ক্রয় করা বাড়ি, মার্কেট এবং জমি। কৃষি খামার, রাবার বাগানে বিনিয়োগ, হিমায়িত মাছ রপ্তানী, প্রিন্ট-মিডিয়ার শেয়ার, চামড়াজাত পণ্য-রপ্তানীতে বিনিয়োগ, মেডিক্যাল সার্ভিস, যুবক প্রিন্ট-শাড়ী, চেইন-মার্কেটিং, বিষমুক্ত সবজী উৎপাদন, প্রশিক্ষন একাডেমী, নারী উন্নয়ন, শিশু প্রতিভা বিকাশ, পরিবার পরিকল্পনা, শিক্ষা বৃত্তি, পোল্ট্রি খামার, ট্যুরিজম, ট্রাভেলস এজেন্সি, আই.সি.টি প্রকল্প, পুঁজিবাজার সহ কর্মসংস্থান সহায়ক প্রকল্পগুলোও গ্রহণ করা হয়।   

যুবকের ঘাড়ে চেপে বসে অযাচিত লভ্যাংশের চাপ এবং লোকসানের দায় 
যুবকের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তহীনতা এবং চাপিয়ে দেয়া লভ্যাংশ যুক্ত হয়ে বিগত সময়ে কম-বেশী ১,০০০/১,২০০ কোটি টাকার দায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে, সৃষ্ট সঙ্কটের কারণে প্রকল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে এবং লোকসানি প্রকল্পে পরিণত হয়। মাইক্রো-ক্রেডিট প্রোগ্রামের নামে মাঠে অনাদায়ী হিসাবে আটকে পড়ে প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি, যুবক হাউজিং-এর প্লট গ্রহীতাদের প্রায় ১০ কোটি টাকার মাসিক কিস্তি আদায়, যুবক ফোনের মাসিক ৩.৫ কোটি টাকা আয় এবং অন্যান্য প্রকল্পগুলোর আরো প্রায় ৫ কোটি টাকার মাসিক আদায়, সব মিলিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার মাসিক যোগান বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়াও, যুবক ফোন -এর ২৯৮ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ চুক্তি বাতিল হয়। ফলে, ৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। ‘লভ্যাংশ সহ ফেরত দিতে হবে’- বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা মানতে যেয়ে ১,০০০/১২০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত দায় কাঁধে চেপে বসে। ২০০৬ সালের ৭০০/৭৫০ কোটি টাকার দায় বেড়ে বর্তমানে ২,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। 

পর্যন্ত ৭৫০ কোটি টাকার অধিক দায় পরিশোধ করা হয়েছে।

দায়ের বিপরীতে এ পর্যন্ত প্রায় ২.২৫ লক্ষ গ্রাহককে নগদ টাকা প্রদান করা হয়েছে ২০০ কোটির অধিক। জমি/প্লট প্রদানের মাধ্যমে দায়-শোধ হয়েছে ৫৫০ কোটি টাকার অধিক। রেজিস্ট্রিকৃত জমি/ প্লটের সংখ্যা ৫,০০০টি। ইতিমধ্যে প্লট সরেজমিন বুঝিয়ে দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে এবং ২,০০০টি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ২০১৩ সালে আরো ১,৫০০ টি সরেজমিন দখল বুঝিয়ে দেয়ার কাজ চলছে।

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান/ কোম্পানী গুলোকে সচল করার পর এর শেয়ার ও সংশ্লিষ্ট সম্পদগুলো হস্তান্তরের মাধ্যমে দায় পরিশোধ হবে ৫০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে এ সংশ্লিষ্ট আইনী-কাজ শুরু হয়েছে। বেদখল হওয়া বা লুট-পাট হওয়া, মামলাধীন এবং বন্ধ হওয়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে পরিচর্যায় আনা হয়েছে। সাময়িক জটিলতার কারনে এর বাস্তবায়ন বিলম্ব হচ্ছে।

নিম্নোক্ত তথ্যগুলো ওয়েব সাইটে সংযুক্ত করা হয়েছে
ক. দায়ের বিপরীতে নগদ টাকা প্রাপ্ত ২ লক্ষ গ্রাহকের তালিকা ; 
খ. দায়ের বিপরীতে ৫,০০০ প্লট গ্রহীতার তালিকা ; 
গ. দায়ের বিপরীতে সমন্বয়কৃত ৪১,০০০ ডিড/ ডকুমেন্টস এর তালিকা।
www.jubokmembers.com

সদস্যদের দায় পরিশোধের লক্ষে মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয় বরাবর
১,০০০ কোটি টাকার ‘প্রনোদনা ঋন’ এর জন্য আবেদন    
- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -

সংযুক্তি-০২

চলতি ২০১৩ সালে ৫০০ কোটি টাকার দায় পরিশোধ করার টার্গেট রয়েছে
চলতি ২০১৩ সালে জমি হস্তান্তর, নগদ টাকা বিতরণ, বাণিজ্যিক কোম্পানীর শেয়ার বিতরণের মাধ্যমে ৫০০ কোটি টাকার দায় পরিশোধ করার টার্গেট রয়েছে। গত ৭/৮ মাসে ১৫০ কোটি টাকার দায় সমন্বয় করে জমি/প্লট দেয়া হয়েছে। আরো ১০০ কোটি টাকা সমন্বয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বলা আবশ্যক যে, বাণিজ্যিক কোম্পানীর শেয়ার বিতরণের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার কারনে নির্দিষ্ট টার্গেট অর্জিত হতে বিলম্ব হচ্ছে।

‘দায়-মুক্ত-জেলা’ ঘোষণা দেয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে :

১. খুলনা বিভাগ :  চলমান কার্যক্রমের মাধ্যমে ২০১৩ সালের মধ্যে দায়-মুক্ত হবে ৪টি জেলা শাখা : যশোর, সাতক্ষীরা,
    চুয়াডাংগা, ও বাগেরহাট। উল্লেখ্য, প্রাথমিক যাচাইয়ের আলোকে বর্তমান দায়-দেনার পরিমান =৫০/৬০ কোটি টাকা।
     ২০১৪ এর মধ্যে বাগেরহাট প্রকল্প- ১ ও ২, জাবুশা প্রকল্প, খুলনা শহরের বাড়ী, যুবক হ্যাচারীর জমি, যশোহরের জমি সহ
     স্থাবর-অস্থাবর সম্পদগুলোর বিরোধ নিষ্পত্তি করে সকল দায় পরিশোধ সম্পন্ন হবে। ইন-শা-আল্লাহ।
২. রাজশাহী-রংপুর বিভাগ :  ২০১৩ সালের মধ্যে দায়-মুক্ত হবে ২টি জেলা শাখা : সিরাজগন্জ ও বগুড়া।  
     উল্লেখ্য, প্রাথমিক যাচাইয়ের আলোকে বর্তমান দায়-দেনার পরিমান =৪৫/ ৫৫ কোটি টাকা। বিনিয়োগের বকেয়া টাকা সমন্বয়,
     বগুড়া, রাজশাহী, চাপাই, রংপুর ও গাইবান্ধার জমি সমন্বয় করে ২০১৪ এর মধ্যে দায়-পরিশোধ সম্পন্ন হবে। ইন-শা-আল্লাহ।
৩. সিলেট বিভাগ : ২০১৩-১৪ সালের মধ্যে দায়-মুক্ত হবে ৪টি জেলার সবগুলো। 
     উল্লেখ্য, প্রাথমিক যাচাইয়ের আলোকে বর্তমান দায়-দেনার পরিমান=১০/১২ কোটি টাকা। হবিগন্জ ও সিলেটের জমির বিরোধ
     নিষ্পত্তি করে দায়ের বিপরীতে সমন্বয় করা হবে। জুন’১৪ এর মধ্যে পরিশোধ সম্পন্ন হবে। ইন-শা-আল্লাহ।

৪. বরিশাল বিভাগ : ২০১৩ সালের মধ্যে দায়-মুক্ত হবে ২টি জেলা যথা : বরিশাল ও ভোলা।
      উল্লেখ্য, প্রাথমিক যাচাইয়ের আলোকে বর্তমান দায়-দেনার পরিমান=১০০/১২০ কোটি টাকা। ২০১৪ এর মধ্যে ভেনাস মার্কেট
      প্রকল্প, কুয়াকাটা প্রকল্প-২, উলালঘনি প্রকল্প, বিমান বন্দর প্রকল্প, ঝালকাঠি-পিরোজপুর-বরগুনা-পটুয়াখালীর জমি সমুহের
      বিরোধ নিষ্পত্তি করে দায়ের সাথে সমন্বয় করার মাধ্যমে সকল দায় পরিশোধ সম্পন্ন হবে। ইন-শা-আল্লাহ।

৫. ঢাকা উত্তর বিভাগ : ২০১৩ সালের মধ্যে দায়-মুক্ত ঘোষনা করা হবে ৩টি জেলা শাখা : ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা,
      কিশোরগন্জ। উল্লেখ্য, প্রাথমিক যাচাইয়ের আলোকে বর্তমান দায়-দেনার পরিমান=৭০/৮০ কোটি টাকা। ২০১৪ এর মধ্যে
      মিতালী প্রকল্প, মিরপুর প্রকল্প, কুমারখুদা প্রকল্প সহ দলেশ্বর-ধামরাই-ভালুকা-ময়মনসিংহ এর জমিগুলো দায়ের সাথে সমন্বয়
      করে সকল দায় পরিশোধ সম্পন্ন হবে। ইন-শা-আল্লাহ।
৬. ঢাকা দক্ষিণ বিভাগ : ২০১৩ সালের মধ্যে দায়-মুক্ত হবে ৩টি জেলা শাখা : না.গন্জ, নরসিংদী ও মানিকগন্জ।   
      উল্লেখ্য, যাচাইয়ের আলোকে বর্তমান দায়-দেনার পরিমান=১২৫/১৫০ কোটি টাকা। ২০১৪ এর মধ্যে কাঁচপুর, জালকুড়ি,
      বি.কে.টাওয়ার প্রকল্প সহ চান্দেরচর, চরপানিয়া, মুন্সিগঞ্জের জমিগুলো দায়ের সাথে সমন্বয় করে সকল দায় পরিশোধ সম্পন্ন
      হবে। ইন-শা-আল্লাহ।
৭. ঢাকা পশ্চিম বিভাগ : ২০১৪ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দায়-মুক্ত করার চেষ্টা চলছে।   
      উল্লেখ্য, বর্তমান দায়-দেনার পরিমান=৩৫/৫০ কোটি টাকা। ২০১৪ এর মধ্যে সাভার প্রকল্পের পরিপুর্নতা বিধান করার মাধ্যমে সকল দায় পরিশোধ সম্পন্ন হবে। ইন-শা-আল্লাহ।
৮. চট্টগ্রাম বিভাগ : ২০১৪ সালের মধ্যে দায়-মুক্ত করার চেষ্টা চলছে।   
      উল্লেখ্য, প্রাথমিক যাচাইয়ের আলোকে বর্তমান দায়-দেনার পরিমান প্রায় ২০০/২২৫ কোটি টাকা। ২০১৪ এর মধ্যে সেন্ট
      মার্টিন প্রকল্প, কক্সবাজার প্রকল্প, ফেনী প্রকল্প সহ সকল প্রকল্প পরিপুর্নতা বিধান করার মাধ্যমে দায় পরিশোধ সম্পন্ন হবে।
      ইন-শা-আল্লাহ।     

সদস্যদের দায় পরিশোধের লক্ষে মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয় বরাবর
১,০০০ কোটি টাকার ‘প্রনোদনা ঋন’ এর জন্য আবেদন    
- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -   

সংযুক্তি-০

সমস্যাগ্রস্থ প্রকল্পগুলোর বিবরন :

ক. টেলিবার্তা লি. : ( PSTN ফোন কোম্পানী )
৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল এই কোম্পানী। (ব্যাংকের প্রায় ১১২ কোটি এবং যুবকের প্রায় ৩০০ কোটি) দেশের ফোন-মোবাইল কোম্পানীগুলো বিদেশী মালিকানাধীন হওয়ায় দেশের মানুষের টাকা চলে যাচ্ছে বিদেশে। দেশের টাকা দেশের ভেতরে ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি ছিল যুবকের।
কোম্পানী গঠন        : ২০০৪ সালে 
PSTN লাইসেন্স গ্রহন    : ২০০৫ সালে (ঢাকা ব্যাতীত) এবং ২০০৮ সালে ঢাকা সহ সমগ্র দেশ
নেটওয়ার্কভুক্ত এলাকা    : BTS  ৩০০ টি
বানিজ্যিক উদ্বোধন      : ২৮.২.২০০৬ 

ঢাকা ব্যাংকের অদক্ষ ও অযোগ্য ঋন-ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বহীনতার কারনে ৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগটি
সম্পুর্নরূপে ধ্বংশের মুখে পড়েছে। এর দায় কে গ্রহন করবে ? 

খ. ন্যাশনাল টেলিভিশন লি. ( আর.টি.ভি ) 
২০০৫ সালে যুবকের নিজস্ব বিনিয়োগের পরিমান ৩০.২ কোটি টাকা।

কোম্পানীতে যুবকের যোগদান    : ২০০৫ সালে
বানিজ্যিক উদ্বোধন           : ২০০৫ সালে 
ঘটনা-প্রেক্ষাপট : Rtv-এর ৫৭% এর মালিকানার সুবাদে এই খাতে যুবকের বিনিয়োগ ৩০.২ কোটি টাকা। ২০০৭ সালে DGFI যুবক পরিচালকদের নির্যাতন সেলে ৪২ দিন আটকে রাখে। এক পর্যায়ে জোর পূর্বক যুবকের শেয়ারগুলো ছিনিয়ে নেয়। ২০০৮ সালের শেষে DGFIএর পরিচালক (পরে মহা পরিচালক) মহোদয় বেংগল প্লাষ্টিকের মালিক জনাব মোরশেদ আলম এবং তার ছেলে জনাব বাবলুকে ডেকে নিয়ে যুবকের শেয়ার যুবককে ফিরিয়ে দেবার জন্য চাপ দেন। জনাব মোরশেদ ও তাঁর ছেলে তখন স্বীকারোক্তি প্রদান করলেও পরে রাজনৈতিক ক্ষমতা দিয়ে বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়।

গ. ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর ৮০% স্পন্সারশীপ এখন বেদখল
২০০৫ সালে যুবকের বিনিয়োগ হয়েছে ১৩ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে যুবকের নেতৃবৃন্দ জেলে আটক থাকা কালে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০% মালিকানার দাবীদার জনাব চিশতি অবৈধভাবে দখল করে নেয়।

ঘ. তেজগাঁওয়ের ৩০ কাঠা/ ৪৯.৫ শতক -এর করপোরেট প্লট : বর্তমান বাজার মুল্য ৬০ কোটি টাকা।

ঙ. তেজগাঁয়ের জমির ৪ তলা ভবনটির মাসিক ভাড়া : মাসিক ৩ লক্ষ টাকার ভাড়া কতিপয় রাজনৈতিক
প্রভাবশালী জোর পূর্বক আদায় করে নিচ্ছে। গত ৪ বছরে এর পরিমান হবে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা।

চ. রহমত মন্জিল, পুরানা পল্টন লেনস্থ ১৩ কাঠা/ ২১.৪৫ শতক করপোরেট প্লট : বর্তমান বাজার মুল্য
৩৫-৪০ কোটি টাকা।

ছ. পুরানা পল্টন লেনে অবস্থিত রহমত মন্জিল এর ৪ তলা ভবনটিঅতীশ দিপংকর বিশ্ববিদ্যালয়কে ভাড়া দেয়া
হয়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও নানান অজুহাত দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকার বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করা থেকে বিরত রয়েছে।

জ. পুরানা পল্টনের ২০ তলা অ-সমাপ্ত বি.কে.টাওয়ার : ২০ শতক জমির উপর নির্মানাধীন বহুতল ভবনের কাজ
৪ তলা হবার পর বন্ধ রয়েছে। অ-সমাপ্ত এই ভবনটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা এবং নির্মানের পর এর বাজার মুল্য হবার কথা ২০০ কোটি টাকা। এখানে যুবক এর দপ্তর অবস্থিত। প্রকল্পটি মামলাধীন।

ঝ. যুবক সিরামিক ইন্ডাষষ্ট্রীজ লি. : শিল্পীর হাতে তৈরী ও নকশা খচিত সিরামিকের এক অনবদ্য আয়োজনে সমৃদ্ধ
এই ফ্যাক্টরী। রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর মাধ্যমে তুরষ্ক, জাপান, নেপাল, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া সহ ৭টি দেশের মেলায় বিপুল সাড়া জাগিয়েছিল। জাতীয় শিল্প মেলায় পুরষ্কারপ্রাপ্ত এই প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বর্তমানে পুঁজি ও পরিচর্যার অভাবে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ঞ. কাঁচপুরের শিল্প এলাকায় ২৪ বিঘা জমি ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পুলিশ অবৈধভাবে দখল করে নিয়ে ব্যারাক বানিয়েছে।  
এই জমির বর্তমান বাজার মুল্য ১২-১৫ লক্ষ টাকা শতক হারে মোট জমির মুল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

ট. বরিশালের ভেনাস মার্কেটটি ভাড়াটিয়া দোকানদাররা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।
মার্কেটের জমির মুল্য ১২/১৫ কোটি টাকা। ভাড়াটিয়ারা ভাড়া নবায়ন করছেনা, এমনকি মাসিক ভাড়া গত ৬ বছর যাবৎ অনাদায়ী রয়েছে। বকেয়ার পরিমান প্রায় ২ কোটি টাকা।  

ঠ. খুলনার বাড়ী ও বাগের হাটের প্রায় ২৫০০ শতক জমি বেদখল অবস্থায় রয়েছে।
খুলনা শহরের প্রানকেন্দ্রের এই জমির ৩ তলা ভবনটি সহ এর বর্তমান বাজার মুল্য ১৫ কোটি টাকা।
২টি মামলা রয়েছে। বেদখল হওয়া বাগেরহাটের প্রায় ২৫০০ শতক জমির বাজার মুল্য ১৫ কোটি টাকা।

ড. ভোলায় মুল্যবান ১০০০ শতক জমি ২জন স্থানীয় প্রভাবশালীর দখলে রয়েছে। এই জমির বর্তমান বাজার মুল্য
প্রায় ২০ কোটি টাকা। অপর ১০০ বিঘা জমি বর্তমানে সদস্যদের পাওনার বিপরীতে সমন্বয় করে দেয়া হচ্ছে। এর মুল্যমান হবে ৩০/৩২ কোটি টাকা। 

ঢ. কতিপয় অ-সদস্য দুর্বৃত্ত ২০১০ সালে নারায়নগঞ্জের স্থানীয় Rab-১০ এর পরিচালক জনাব কামাল
সাহেবের প্রত্যক্ষভুমিকায় দলিল-দাতাদেরRab কার্যালয়ে ৭ দিন আটকে রাখে এবং জোর পুর্বক জালকুঁড়ির ২০ কোটি টাকা মূল্যের ৩০০ শতক জমি রেজিষ্ট্রি করে নেয়। পরে এর বিরুদ্ধে যুবক মামলা করে। উল্লেখ্য, কমিশনের দোহাই দিয়ে এই প্রকল্পের অবশিষ্ট জমি পাওনাদার যুবক সদস্যদের নামে রেজিষ্ট্রি দিতে সাব-রেজিষ্টার অসম্মতি জানিয়েছেন। এমনকি জমির খাজনাও গ্রহণ করছেন না।

উপরোক্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি আরো অনেক সম্পদ বেদখল অবস্থায় ঝুকির মধ্যে রয়েছে।
সমাধানের লক্ষ্যে বিনয়ের সাথে আমরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।